বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং মারা গেছেন

Alam

১৪ মার্চ ২০১৮,বুধবার, ১০:৩৪

বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং মারা গেছেন

বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং মারা গেছেন

বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিদ
স্টিফেন হকিং মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিলো ৭৬ বছর। সূত্র- বিবিসি

Stephen Hawking has died at the age of 76, his family has said.

The British theoretical physicist was known for his groundbreaking work with black holes and relativity, and was the author of several popular science books including A Brief History of Time.

His children, Lucy, Robert and Tim, said: "We are deeply saddened that our beloved father passed away today.

"He was a great scientist and an extraordinary man whose work and legacy will live on for many years."

Obituary: Stephen Hawking
They praised his "courage and persistence" and said his "brilliance and humour" inspired people across the world.

"He once said, 'It would not be much of a universe if it wasn't home to the people you love.' We will miss him forever," they said.

Factfile: Stephen Hawking
Born 8 January 1942 in Oxford, England
Earned place at Oxford University to read natural science in 1959, before studying for his PhD at Cambridge
By 1963, was diagnosed with motor neurone disease and given two years to live
Outlined his theory that black holes emit "Hawking radiation" in 1974
Published his book A Brief History of Time in 1988, which has sold more than 10 million copies
His life story was the subject of the 2014 film The Theory of Everything, starring Eddie Redmayne

 

প্রাণঘাতী রোগের সাথে যুদ্ধ করে ৭৬তম জন্মদিনে পা রাখলেন স্টিফেন হকিং

প্রখ্যাত পদার্থবিদ স্টিফেন হকিংয়ের জন্মদিন গেল সম্প্রতি। আর ৭৬তম জন্মদিন পালন করে তিনি আবারও নিজের শরীরে বাসা বাঁধা প্রাণঘাতী অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (এএলএস) রোগের বিরুদ্ধে নিজেকে জয়ী প্রমাণ করলেন। ২১ বছর বয়স থেকে তিনি এএলএস’র সাথে যুদ্ধ করে চলেছেন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। কিন্তু হকিং নিজের চেয়ে বরং মানবজাতির ভবিষ্যৎ নিয়েই বেশি চিন্তিত।

৮ জানুয়ারি নিজের জন্মদিনটা অন্যরকমভাবেই পালন করেছেন তিনি। তার ‘ফেভারিট প্লেসেজ’ সিরিজের নতুন একটি এপিসোড এসেছে। এই এপিসোডে শুক্র গ্রহের আবহাওয়া এবং পৃষ্ঠ নিয়ে আলোচনা হয়। হকিং সাবধান করে দেন, শিগগিরই পৃথিবীর অবস্থাও এমন হতে পারে, যদি জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো ভালো সমাধান না পাওয়া যায়।

হকিং মানবজাতির চিন্তায় বিভোর থাকলেও সাধারণ মানুষের চোখে তার এই দীর্ঘ জীবন অনেকটাই অবিশ্বাস্য এক রূপকথার মতো। এএলএস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, রোগটি ধরা পড়ার পর মাত্র অর্ধেক মানুষ তিন বছর বা তার বেশি সময় বাঁচেন। এর মাঝে ২০ শতাংশ বাঁচেন ৫ বছরের বেশি। আর ১০ বছরের বেশি বাঁচতে দেখা যায় মাত্র ১০ শতাংশ মানুষকে। স্টিফেন হকিং সেই রোগ নিয়েই বেঁচে আছেন ৫২ বছর!

গত অর্ধ শতক তার জন্য সহজ ছিল না মোটেই। তিনি নিজের বেশিরভাগ পেশী ব্যবহার করতে অক্ষম এখন। একটি মোটোরাইজড হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভরশীল তিনি। ১৯৮৫ সালে কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন এবং কম্পিউটার সিস্টেমের সাহায্যে কথা বলতে হয় তাকে।

এত কঠিন রোগ নিয়ে কীভাবে তিনি বেঁচে আছেন, তা ব্যাখ্যা করা সহজ নয়। ২০১২ সালে সায়েন্টিফিক আমেরিকান লিও ম্যাকক্লাস্কির সাথে এ ব্যাপারে কথা বলেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভেনিয়ার এএলএস সেন্টারের মেডিক্যাল ডিরেক্টর এবং নিউরলজির একজন সহকারী অধ্যাপক। তিনি জানান, আসলেই স্টিফেন হকিংয়ের ব্যাপারটা বিরল।

এএলএস হলো একটি প্রগ্রেসিভ নিউরোডিজেনারেটিভ ডিজিজ। রোগটি ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের এবং সুষুম্নাকান্ডের স্নায়ুকোষ নষ্ট করে ফেলে। ফলে রোগী সময়ের সাথে মোটোর ফাংশন হারায়, কিন্তু কগনিটিভ ফাংশন বজায় থাকে। অর্থাৎ সে নড়াচড়া করতে পারে না কিন্তু সুস্থ মানুষের মতো চিন্তা করতে পারেন। বেশির ভাগ এএলএস রোগী রেসপিরেটরি ফেইলিওরের কারণে মারা যান, ডায়াফ্রাম মাসল কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে। অথবা খাবার গিলতে সাহায্য করা পেশী কাজ করা বন্ধ করে দেওয়ার ফলে পুষ্টিহীনতা ও পানিশূন্যতায় মারা যেতে পারেন।

ম্যাকক্লাস্কি নিজে স্টিফেন হকিংয়ের চিকিৎসা করেননি বটে। কিন্তু এএলএস, স্টিফেন্ হকিংয়ের শারীরিক অবস্থা ও তার শরীরে এই রোগের অবস্থার ব্যাপারে তিনি অবগত। তার ধারণা অনেক কম বয়সে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণে হয়তো তার রোগটি এখনও মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি। এর পাশাপাশি তিনি ধারণা করেন, সম্ভবত এ সময়ের সবচেয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানী হিসেবে স্টিফেন হকিংয়ের খুবই ভালো যত্ন নেওয়া হয় যা কিনা তার দীর্ঘায়ুর পেছনে মূল কারণ।

সূত্র: নিউজউইক

স্টিফেন হকিং যেমনি কর্মে নিরলস, তেমনি আচরণে নিরহঙ্কার এবং অনেকের কাছে অবাক করার মতো বিষয় হলো- তিনি অন্য অনেক বিজ্ঞানীর মতো নাস্তিক নন, স্রষ্টায় বিশ্বাসী। তার নিজের কথায়- কোনো কিছু শূন্য থেকে আসেনি, সব কিছুর পেছনে আছেন একজন স্রষ্টা। আবার তিনি এটাও বলেছেন, এ মহাবিশ্ব কিছু নিয়ম-কানুন মেনে চলে। হতে পারে নিয়মগুলো স্রষ্টাই সৃষ্টি করেছেন, তবে নিয়মের ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য তিনি কখনো হস্তক্ষেপ করেন না। এ বিশ্বাস থেকেই হয়তো তিনি বলেছেন, ‘আকাশের তারার দিকে তাকান, নিচের দিকে নয়। বিস্ময়কর মহাবিশ্বকে অনুভব করুন কৌতূহল নিয়ে।’


সব বৈজ্ঞানিক নাস্তিক নন। অনেক নামকরা বৈজ্ঞানিকই আস্তিক। যেমন আলবার্ট আইনস্টাইন, স্টিফেন হকিং, আইজাক নিউটন, ম্যাক্স প্লাঙ্ক প্রমুখ। তাই বিজ্ঞানের ইতিহাস বলে না যে, বৈজ্ঞানিক হতে হলে নাস্তিক হতেই হবে। কিন্তু মুক্তচিন্তাবাদীরা বোঝাতে চেয়েছেন যে, মুক্তচিন্তার অধিকারী হতে হলে আস্তিক হওয়া যাবে না। ইসলামে মুক্তচিন্তার পথ রুদ্ধ করে দেয়া হয়নি। ইসলামে আল্লাহ হলেন সব সৃষ্টির অন্তিম ভিত্তি। সূরা নূরে বলা হয়েছে আল্লাহ হলেন আলোর আলো। অর্থাৎ এক পরম শক্তির উৎস। তাপ গতিবিদ্যার নিয়মানুসারে তাপ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড শীতল হয়ে যেতে পারত, কিন্তু বিশ্বব্রহ্মাণ্ড শীতল হয়ে যায়নি। অনেক বৈজ্ঞানিক তাই মনে করেন, শক্তির একটি অফুরন্ত উৎস আছে, মহাশক্তির এই উৎসই হচ্ছেন আল্লাহ।

 

 


প্রতিদিনের খবরগুলো ফেসবুকে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Logo

সম্পাদক: পল্লব মুনতাকা। জ্যাকম্যান, মেডওয়ে, ইউএসএ
ইমেইল: mail.newsevent24@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | newsevent24 2018