ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ‘পঞ্চাশের বেশি’

Alam

১২ মার্চ ২০১৮,সোমবার, ২২:৪৭

ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ‘পঞ্চাশের বেশি’

ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ‘পঞ্চাশের বেশি’

দুর্ঘটনা কবলিতদের উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে নেপালের সেনাবাহিনী। ছবি: এএফপি

ঢাকা থেকে নেপালের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ইউএস বাংলার একটি বিমান দেশটির রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়ে ৫০ জনের বেশি আরোহী নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ধারণা, হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

এর আগে বিএস-২১১ মডেলের ওই বিমানটি দুপুর ১২টা ৫১মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬৭ জন যাত্রী নিয়ে কাঠমান্ডুর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এসময় বিমানটিতে ৪ জন ক্রু ছিল।

ইউএস বাংলার কর্মকর্তারা জানান, বিমানটির আরোহীদের মধ্যে ৩৭ পুরুষ, ২৭ নারী ও দুই শিশু। যাত্রীদের মধ্যে ৩৩ জন নেপালি, ৩২ জন বাংলাদেশি, মালদ্বীপ ও চীনের আছেন একজন করে।

 

কানমান্ডু বিমানবন্দরের একটি খেলার মাঠে আছড়ে পড়ে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। ছবি: কাঠমান্ডু পোস্ট

নেপালের সংবাদ মাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়, ১২ মার্চ, স্থানীয় সময় সোমবার ২টা ২০ মিনিটে বিমানটি অবতরণের সময় স্থানীয় একটি ফুটবল খেলার মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

প্রেম নাথ ঠাকুর নামে বিমানবন্দরের একজন মুখপাত্র জানান, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি থেকে আহত অবস্থায় ২০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজে ও সিনামানগালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত দুই যাত্রীর পরিচয় পাওয়ায় গেছে। তারা হলেন- বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের উম্মে সালিমা ও নাজিয়া আফরিন চৌধুরী

 

বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি থেকে দূর্গতদের উদ্ধারে নেপালের সেনাবাহিনী কাজ শুরু করেছে। এছাড়া কতৃপক্ষ বিমানবন্দরটি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে, বাতিল করা হয়েছে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সব ফ্লাইট।

এদিকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্ম অলি দুর্ঘটনা কবলিত স্থানে উপস্থিত রয়েছেন। কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবরে তিনি ঘটনাস্থলে যান।

বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, অন্তত দুই ঘন্টা পর ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে।

সিলেটের রাগীব-রাবেয়া মেডিকেলের ১৩ শিক্ষার্থী নিহত

নেপালে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলার বিমানে সিলেটের জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩ শিক্ষার্থী ছিলেন। তারা সবাই নিহত হয়েছেন। ১৩জনই নেপালের নাগরিক। কলেজের ছুটিতে নিজেদের দেশে যাচ্ছিলেন তারা।

বিমানে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩ নেপালি শিক্ষার্থী হলেন—সঞ্জয় পৌডেল, সঞ্জয়া মহারজন, নেগা মহারজন, অঞ্জলি শ্রেষ্ঠ, পূর্নিমা লোহানি, শ্রেতা থাপা, মিলি মহারজন, শর্মা শ্রেষ্ঠ, আলজিরা বারাল, চুরু বারাল, শামিরা বেনজারখার, আশ্রা শখিয়া ও প্রিঞ্চি ধনি। রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের নেপালি শিক্ষার্থী উশমা মাইনালি তার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এই ১৩জনের নাম জানিয়েছেন।

এদের সবারই মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পেয়েছেন জালালাবাদ রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আবেদ হোসেন।

তিনি প্রিয়.কমকে জানান, নিহতরা সবাই ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা শেষ করে নিজেদের দেশ নেপালে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। এদের মধ্যে ১১জন মেয়ে শিক্ষার্থী ও ২জন ছেলে শিক্ষার্থী রয়েছে।

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় রুয়েট শিক্ষক আইসিইউতে

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) কম্পিউটার এন্ড ইঞ্জিনিয়ানিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ইমরানা কবির হাসি আহত হয়ে আইসিইউতে আছেন। ব্যক্তিগত কাজে নেপালে যাচ্ছিলেন তিনি। ইউএস-বাংলার ওই বিমানের যাত্রী ছিলেন ইমরানা ও তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম।

বিষয়টি জানিয়েছেন রুয়েটের কম্পিউটার এন্ড ইঞ্জিনিয়ানিং বিভাগের প্রধান ও শহীদ আব্দুল হামিদ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম।

 

 


প্রতিদিনের খবরগুলো ফেসবুকে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Logo

সম্পাদক: পল্লব মুনতাকা। জ্যাকম্যান, মেডওয়ে, ইউএসএ
ইমেইল: mail.newsevent24@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | newsevent24 2018