বাবা-মা নিখোঁজ ৪৩ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর

Alam

০৮ মার্চ ২০১৮,বৃহস্পতিবার, ২৩:৫০

বাবা-মা নিখোঁজ ৪৩ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর

বাবা-মা নিখোঁজ ৪৩ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর

রাখাইন রাজ্যে ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সহিংসতার পর থেকে রোহিঙ্গা শিশুদের ৪৩ হাজারের বেশি বাবা–মা নিখোঁজ রয়েছেন। আসিয়ান পার্লামেন্টারিয়ান ফর হিউম্যান রাইটস (এপিএইচআর) নামের একটি সংগঠনের এক মানবাধিকার প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

এপিএইচআর এর প্রতিবেদনের জরিপের ফলাফল প্রমাণ করে, রাখাইনে নিহতের সংখ্যা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের স্বীকার করা সংখ্যার চেয়েও আরো অনেক বেশি। অনেক শিশুকে পাওয়া গেছে যাদের বাবা-মাকে হত্যা করা হয়েছে। পথচারি অথবা প্রতিবেশীরা জ্বলন্ত ঘর থেকে তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ২৮ হাজার তিনশো রোহিঙ্গা শিশু নিজেদের বাবা-মায়ের কমপক্ষে একজনকে হারিয়েছে। এছাড়া শিবিরের ৭ হাজার সাতশো শিশু বাবা-মা দুজনকেই হারিয়েছে। আর এই দুই সংখ্যা মিলিয়ে রোহিঙ্গা শিশুর নিখোঁজ হওয়া বাবা-মায়ের সংখ্যা ৪৩ হাজার ৭০০ জন।

 

'এখন গুম হচ্ছে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরা'

মিয়ানমার সরকার রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করার ছয় মাস পরেও জাতিগত নিধন অভিযান বন্ধ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক একজন কর্মকর্তা।

জাতিসঙ্ঘের এই দূত বলেছেন, সেখানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর 'সন্ত্রাসের রাজত্ব' অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলছেন, এখনও বহু মানুষ না খেয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপর সামরিক অভিযান শুরু করার ছয় মাস পরেও এসব অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী মহাসচিব এন্ড্রু গিলমোর।

বাংলাদেশে চার দিনের সফর শেষে তিনি বলেছেন, সংখ্যালঘু এই মুসলিম বর্মী জনগোষ্ঠীর উপর এখনও পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, তবে এর ধরনের কিছুটা পরিবর্তন ঘটেছে।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে অতি সম্প্রতি যারা বাংলাদেশে এসে ক্যাম্পে উঠেছেন তাদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে গ্রাম থেকে লোকজন গুম হয়ে যাচ্ছে।

তারা বলেছেন, বিশেষ করে গ্রামের নারী ও মেয়ে-শিশুরা নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে এবং তাদের পরে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

গিলমর আরো বলেন, বর্তমানে মিয়ানমারের যে পরিস্থিতি তাতে সেখানে ফিরে গিয়ে নিরাপদে বসবাস করা অসম্ভব।

তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার সারা বিশ্বকে এটা বলতে ব্যস্ত যে তারা রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করতে প্রস্তুত, কিন্তু ঠিক একই সময়ে তার বিভিন্ন বাহিনী রোহিঙ্গাদেরকে বাংলাদেশের দিকে পাঠিয়ে দিচ্ছে।"

গত অগাস্ট মাসের পর থেকে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী শুরু থেকেই বলে আসছে যে তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।

এন্ড্রু গিলমোর বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় কক্সবাজার ঘুরে দেখে বলেন, সেখানে আমি যা দেখেছি, যা শুনেছি তা থেকে অন্য কিছু উপসংহার টানা যায় না। হত্যা ও গণ-ধর্ষণের পরিবর্তে এখন সেখানে একটু কম মাত্রায় সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে, লোকজনকে ক্ষুধার্ত থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলাপ আলোচনা চলছে। তবে গত সপ্তাহে সীমান্তে বর্মী সৈন্যের সমাবেশ ঘটানোয় নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।


বিবিসি

 

 


প্রতিদিনের খবরগুলো ফেসবুকে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Logo

সম্পাদক: পল্লব মুনতাকা। জ্যাকম্যান, মেডওয়ে, ইউএসএ
ইমেইল: mail.newsevent24@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | newsevent24 2018