মধ্যপ্রাচ্যে ২৪ ঘণ্টার কম্পন

নিউজ ইভেন্ট২৪/জ. হাসান

০৭ নভেম্বর ২০১৭,মঙ্গলবার, ০৮:৪০

মধ্যপ্রাচ্যে ২৪ ঘণ্টার কম্পন

মধ্যপ্রাচ্যে ২৪ ঘণ্টার কম্পন

এখন থেকে দুই বছর আগে সৌদি আরবের বর্তমান ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান যখন ক্ষমতায় আরোহন করলেন তখন অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, রক্ষণশীল রাজতান্ত্রিক দেশটিতে পরিবর্তনের সূচনা হল। তবে চলতি মাসের ৪ নভেম্বরের ঘটনা প্রবাহ থেকে দেখা যাচ্ছে, সেই পরিবর্তন শুধু দ্রুতগতিরই নয়, বরং অনেকটা ভূমিকম্পের মতোও। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ঘটনা প্রবাহ দেশের সীমানা ছাড়িয়েও পুরো মধ্যপ্রাচ্যকেই নাড়িয়ে দিয়েছে।

সিএনএন জানায়, ২৪ ঘণ্টার এই রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহ শুরু হয় গত রোববার বিকালে। এ সময় লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি সৌদি রাজধানী রিয়াদ সফরে গিয়ে নিজ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এক অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই সৌদি আরবের সরকারি সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে জানায়, সৌদির সামরিক বাহিনী রিয়াদের উদ্দেশ্যে ছোড়া ইয়েমেনের একটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করেছে। এজন্য তারা ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দায়ী করে অভিযোগ করে, তাদেরকে ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তা প্রদান করছে ইরান। এমনকি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের ভিডিওচিত্র যখন এই অঞ্চলজুড়ে টিভি চ্যানেলগুলোত প্রচারিত হচ্ছিল, একই ধরনের নাটকীয় সংবাদ অব্যাহতভাবে আসতেই থাকে।

সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানায়, বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ পরিচালিত দুর্নীতি দমন অভিযানে সৌদি আরবের কয়েকজন প্রিন্স ও ব্যবসায়ীকে তাদের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরব এরই মধ্যে নিজেদের ভেতর থেকেই ক্ষমতা আরও সংহত করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নাটকীয় ঘটনা প্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের সংকট-পীড়িত ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনার জন্য শর্ত হিসেবে কাজ করছে। এই অঞ্চলের প্রভাবশালী দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সৌদি আরব ও ইরান গত কয়েক বছর ধরে যে প্রক্সি যুদ্ধে যুক্ত রয়েছে, এই ঘটনাগুলো তারই প্রতিনিধিত্ব করছে। ফলে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী এখন সামনাসামনি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে এমনটা আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শুক্রবার ইরাক ও সিরিয়ায় আইএস জঙ্গিদের সর্বেশেষ ঘাঁটির পতন হয়েছে। পরদিন শনিবারেই আঞ্চলিক ক্ষমতা কেন্দ্রগুলো একে অপরের দিকে চোখ পাকড়াতে শুরু করে।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের একজন অধ্যাপক ফাওয়াজ জার্জেস বলেন, ‘আমার মনে হয়, তথাকথিত আইএসের পতনের অর্থ এই নয় যে, এ অঞ্চলের ভূ-কৌশলগত যুদ্ধ শেষ হয়ে গেল। বিপরীতে আইএসের এই ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন অবস্থা ইরান ও এ অঞ্চলে সিরিয়া ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো ইরানের মিত্রগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে কৌশলগত যুদ্ধকে আরও তীব্রতর করবে।’

এক্ষেত্রে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির পদত্যাগ একটা তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। শুক্রবার সাদ হারিরিকে সৌদি রাজধানী রিয়াদে ডেকে পাঠানো হয়।

চলতি সপ্তাহের মধ্যেই দেশটিতে এটা ছিল তার দ্বিতীয় সফর। হারিরি সৌদি ও লেবাননের দ্বৈত নাগরিক। এক্ষেত্রে সৌদি আরবই তার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক।

মাত্র সপ্তাহখানেক আগেই প্রধানমন্ত্রী হারিরি লেবানন ও সৌদি আরবের মধ্যকার একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হন।

এ সময় তিনি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ ও একজন খ্যাতমান সৌদি মন্ত্রী থেমার আল সাবহানের সঙ্গে বৈঠক করেন। লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ব্যাপারে সৌদি কর্তৃপক্ষের আগে থেকেই ভয় রয়েছে।

থেমার আল-সাবহান কয়েকটি টুইটার বার্তার মাধ্যমে হিজবুল্লাহর প্রতি সহমর্মিতার কারণে লেবানন সরকারকে কঠোর সমালোচনা করেন।

এরপরই ক্রাউন প্রিন্স ও আল-সাবহানের সঙ্গে এক বৈঠকে সেই ভয় প্রশমন করেন তিনি। এক বৈঠকের পর এক টুইটার বার্তায়ও তিনি তা স্পষ্ট করেন।

তবে তিনি যখন দ্বিতীয়বারের জন্য রিয়াদ সফরে যান, রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। লেবাননকে নতুন একটি রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে রেখে বিদেশের মাটি থেকেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন হারিরি।

এই প্রথমবারের জন্য লেবাননের কোনো প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোর জানিয়েছে, হারিরির সবচেয়ে কাছের সহযোগীরাও তার পদত্যাগের বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানতেন না।

ইরান এরই মধ্যে এক বিবৃতিতে বলেছে, হারিরিকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে সৌদি আরব।

 

 


প্রতিদিনের খবরগুলো ফেসবুকে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-

সংশ্লিষ্ট সংবাদ

Logo

সম্পাদক: পল্লব মুনতাকা। জ্যাকম্যান, মেডওয়ে, ইউএসএ
ইমেইল: mail.newsevent24@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | newsevent24 2017