বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

নিউজ ইভেন্ট ২৪

১০ অক্টোবর ২০১৭,মঙ্গলবার, ২১:৩৬

বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

বৃহস্পতিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

আগামী বৃহস্পতিবার সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালসহ তিন দিনব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বুধবার সারা দেশে বিক্ষোভ এবং শুক্রবার দোয়া দিবস পালন করবে তারা।

গত ৯ অক্টোবর রাতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক ঘরোয়া বৈঠক থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মকবুল আহমাদ, নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সেক্রেটারী জেনারেল ডা: শফিকুর রহমানসহ জামায়াতের নেতাদের গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের প্রত্যেককে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার প্রতিবাদে ও তাদের মুক্তির দাবিতে এ কর্মসূচী ঘোষণা করেছে জামায়াত।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, সরকার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সকল বিরোধী দলকে নেতৃত্ব শূন্য করে দেশকে একদলীয় শাসনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে গত ৯ অক্টোবর রাতে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের প্রত্যেককে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। সরকারের এ ধরনের অন্যায়, অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী আচরণের নিন্দা জানানোর কোনো ভাষা নেই।

তিনি আরো বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের প্রত্যেককে ১০ দিনের রিমান্ডে নিয়ে সরকার মানবাধিকার লংঘন করে তাদের উপর চরম জুলুম করছে। কোন সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের অন্যায় আচরণ কখনো কল্পনাও করা যায় না। সরকারের এ অন্যায় ও অমানবিক আচরণে আমরা বিস্মিত ও মর্মাহত।

নতুন ভারপ্রাপ্ত আমীর বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের একটি আইনানুগ বৈধ রাজনৈতিক দল। অথচ সরকার দীর্ঘ প্রায় সাত বছর ধরে জামায়াতে ইসলামীকে প্রকাশ্যে কোন সভা-সমাবেশ ও মিছিল করতে না দিয়ে আমাদের আইনগত এবং সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার হরণ করেই চলেছে। সরকার দেশের সংবিধান ও আইন লংঘন করে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের উপর জুলুম-নির্যাতন, নিপীড়ন চালাচ্ছে। সরকার জামায়াতসহ বিরোধী দলের নেতাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার, গুম ও হত্যা করছে। কর্তৃত্ববাদী সরকার দেশের জনগণের উপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

তিনি বলেন, সরকার একে একে দেশের সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে দিচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরকারের জুলুম-নির্যাতনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও হরণ করেছে। দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার বলতে কোনো কিছু আর বাকি নেই। দেশের জনগণ অসহায় হয়ে পড়েছে।
কর্মসূচি : (১) আগামীকাল ১১ অক্টোবর বুধবার সারা দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, (২) আগামী ১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা শান্তিপূর্ণ সর্বাত্মক হরতাল এবং (৩) ১৩ অক্টোবর শুক্রবার গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দের মুক্তির জন্য সারা দেশব্যাপী দোয়া।

বিবৃতিতে জানানো হয়, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, সংবাদপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট গাড়ি এবং ঔষধের দোকান হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।

 

 

রাজধানীতে জামায়াতের বিক্ষোভ : আটক ৬

জামায়াতে ইসলামীর আমীর মকবুল আহমাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানসহ ৯ নেতার গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মঙ্গলবার রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছে মহানগর জামায়াত। এ সময় পুলিশ ছয়জনকে আটক করে।

ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াত : বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল উত্তর বাড্ডা থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম ও মাহফুজুর রহমান, শিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ঢাকা মহানগরীর মজলিশে শুরা সদস্য ডা. ফখরুদ্দীন মানিক, মোস্তাফিজুর রহমান, ডা. শফিউর রহমান, আবুল হাসান, হোসাইন আহমদ, আলাউদ্দীন, নাসির উদ্দীন, আনোয়ারুল করিম ও আব্দুল কাইয়ুম মজুমদার, জামায়াত নেতা আতিকুর রহমান, সাইফুল ইসলাম ও ফেরদৌস, ছাত্রনেতা মুজাহিদুল ইসলাম ও সজীব প্রমূখ। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষ হলে পুলিশ সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ৬ পথচারীকে আটক করে বলে জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন।

সমাবেশে রেজাউল করিম বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক ও আদর্শিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে দলন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে। সে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও আমীরে জামায়াত মকবুল আহমাদ এবং সেক্রেটরি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু জুুলুম-নির্যাতন চালিয়ে অতীতে কোন ফ্যাসীবাদী ও স্বৈরাচারি শক্তির শেষ রক্ষা হয়নি, আর আওয়ামী লীগেরও হবে না। তিনি জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং অবিলম্বে আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। অন্যথায় সরকারকে গণরোষের মুখোমুখী হতে হবে।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াত : নয় কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ও অবিলম্বে তাদের মুক্তির দাবিতে এক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ। মিছিলটি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নবাবপুর রোডে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য শামসুর রহমান, কামাল হোসেন, মহানগরী শূরা সদস্য আমিনুর রহমান, হাফিজুর রহমান, মতিউর রহমান, মহিবুল্লাহ ফরিদ, আবু আব্দুল্লাহ, মাহবুবুর রহমান, বাহার উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক খালিদ মাহমুদ, ঢাকা মহানগরী পূর্বের সভাপতি সোহেল রানা মিঠু, ঢাকা মহানগরী পূর্বের সেক্রেটারি ছাত্রনেতা তোফাজ্জল হোসেন, শিবির ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সেক্রেটারি তারিক মাসুম, জামায়াত মতিঝিল থানা সেক্রেটারি মুতাসিম বিল্লাহ, খিলগাঁও থানা সেক্রেটারি মাহমুদ হাসান, রমনা দক্ষিণ থানা সেক্রেটারি আব্দুস সাত্তার সুমন প্রমুখ।

 

 


প্রতিদিনের খবরগুলো ফেসবুকে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-

Logo

সম্পাদক: পল্লব মুনতাকা। জ্যাকম্যান, মেডওয়ে, ইউএসএ
ইমেইল: mail.newsevent24@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | newsevent24 2017