কাশ্মিরে মুসলিম তরুণীদের যেভাবে ধর্ষণ করেছে ভারতীয় সেনারা

নিউজ ইভেন্ট২৪/আর

০৮ অক্টোবর ২০১৭,রবিবার, ১৮:৩৯

কাশ্মিরে মুসলিম তরুণীদের যেভাবে ধর্ষণ করেছে ভারতীয় সেনারা

কাশ্মিরে মুসলিম তরুণীদের যেভাবে ধর্ষণ করেছে ভারতীয় সেনারা

২৬ বছর আগে ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের দু’টি গ্রামে অভিযানের নামে ৩০ জনের বেশি নারীকে গণধর্ষণ করে ভারতীয় সেনারা। কুনান ও পোশপোরা গ্রামের সেই ভয়াবহতার শিকার নারীরা বিচার না পেলেও হাল ছাড়েননি। আজো আইনি লড়াই করে চলছেন বিচারের আশায়।

 

১৯৯১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কুপওয়ারা জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম কুনানে অভিযান চালায় ভারতীয় সেনারা। রাতের খাবার শেষে গ্রামবাসী তখন ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সে সময় ওই এলাকায় স্বাধীনতাকামী একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে গ্রামের পর গ্রাম ঘেরাও করে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছিল তারা। গ্রামবাসী ধারণা করেছিল স্বাধীনতাকামীদের খুঁজতে এসেছে সেনারা। কিন্তু তাদের ভুল ভাঙে কিছুক্ষণ পরেই। তারা বুঝতে পারে সেনাবাহিনী এসেছে গণধর্ষণের পরিকল্পনা নিয়েই।

 

বাড়িতে হানা দিয়ে প্রথমে পুরুষ সদস্যদের ঘরের বাইরে যেতে নির্দেশ দেয় সেনারা। এরপর নারীদের ওপর চালায় বর্বরতা। সেই গণধর্ষণের শিকার দুই নারী জুনি ও জরিনা (দুটোই ছদ্মনাম)। সেই ভয়াবহতার স্মৃতিচারণ করে জুনি বলেন, ‘আমরা ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, সে সময় সেনারা এসে দরজায় টোকা দেয়। পুরুষদের ঘরের বাইরে বের করে দেয়। অনেক সেনাই মদ খাচ্ছিল তখন। আমাকে ধরতে এলে আমি বাধা দেই। আমার কোল থেকে দুই বছরের কন্যাকে ছিনিয়ে নিয়ে জানালা দিয়ে ছুড়ে মারে। চিরতরে পঙ্গু হয়ে যায় আমার মেয়ে।’ জুনি বলেন, ‘সেনারা জোরপূর্বক আমার পোশাক ছিঁড়ে ফেলে। এরপরে কী ঘটেছে আমি জানি না। ওরা পাঁচজন ছিল, আমি আজো ওদের মুখগুলো ভুলতে পারি না।’

 

মাত্র ১১ দিন আগে বিয়ে হয়েছে জরিনার। ওই ঘটনার দিনই সে বাবার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসেছে। বলেন, ‘সেনারা ঘরে নতুন কাপড় দেখে আমার শাশুড়ির কাছে জানতে চায় এসব কার। শাশুড়ি ‘নববধূ’ বলার পর কী ঘটেছে তা বর্ণনা করার ভাষা আমার নেই। শুধু বর্বরতা নয়, ভয়াবহ অবিচারেরও শিকার আমরা। আজো সেনাবাহিনী দেখলে আঁতকে উঠি।’ কুনান ও পোশপোরা গ্রামের লোকেরা মনে করেন সেদিনের গণধর্ষণের ঘটনা ছিল সেনাবাহিনীর পূর্বপরিকল্পিত। ঘরের ভেতর নারীরা যখন পাশবিকতার শিকার, বাইরে পুরুষদেরও বিভিন্ন শাস্তি দিয়েছে সেনারা।

 

ওই ঘটনার ২৬ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো অপরাধীর শাস্তি হয়নি। তবে হাল ছাড়েননি কাশ্মিরের আজন্ম সংগ্রামী মানুষগুলো। এখনো তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় করে যাচ্ছেন আইনি লড়াই। ২০১৩ সালে রাজ্য হাইকোর্টে মামলাটি ফের চালু করার দাবিতে একটি পিটিশন দাখিল করা হয়। এই লড়াইয়ের উদ্যোক্তাদের একজন স্থানীয় তরুণী নাতাশা রাথার। অন্য তিন কাশ্মিরি নারী কর্মীকে নিয়ে তিনি এই ঘটনার বিষয়ে ‘কুনান পোশপোড়ার কথা মনে পড়ে?’ নামে একটি বইও লিখেছেন। নাতাশা বলেন, এটি ছিল বড় আকারের একটি গণধর্ষণ, প্রচুর প্রমাণ রয়েছে এর। ওই ঘটনার ভুক্তভোগীরা সাহস করে বিচারের দাবিতে অগ্রসর হয়েছেন।’

 

মামলাটি ফের চালু হওয়ার পর জম্মু ও কাশ্মিরের হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দিতে। প্রথমে রাজ্য সরকার রাজি হলেও পরে তারা এর বিরুদ্ধে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে। আপিলের শুনানি এখনো চলছে। আর ভারতীয় সেনাবাহিনী তো শুরু থেকেই ঘটনা অস্বীকার করে আসছে।
বিবিসি অবলম্বনে


কথিত ‘বাংলাদেশী’ বিতাড়নে নাগাল্যান্ডে প্রস্তাব পাস
হিন্দুস্তান টাইমস
কথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশী’ অভিবাসীদের (আইবিআই) বিতাড়িত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যের একটি শহরের অধিবাসীরা। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ক একটি প্রস্তাবও পাস করেছে তারা। নাগাল্যান্ডের বাণিজ্যিক নগরী দিমাপুরের ১৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চামুকেদিমা শহরে গত বৃহস্পতিবার এই প্রস্তাব পাস করে।

 

অনেক দিন ধরেই অঞ্চলটিতে অ-নাগাদের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে নাগাদের মধ্যে। এর মধ্যে গত ২১ সেপ্টেম্বর অ-নাগাদের একটি গ্রুপের হাতে একটি নাগা পরিবার আক্রান্ত হওয়ার পর অ-নাগা বিদ্বেষ নতুন করে জেগে ওঠে। শহরে অ-নাগা এবং আইবিআইদের সংখ্যা জানতে ৯-৩১ অক্টোবর জনসংখ্যা গণনারও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।


ট্রাইবাল ইউনিয়ন চামুকেদিমা টাউন প্রস্তাবটি উত্থাপন করে। তারা ‘অবৈধ বাংলাদেশীদের’ মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। তাদের মতে, আইবিআইরা ‘অনেক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কার্যক্রম’ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ‘জনসাধারণের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের’ প্রতি হুমকি সৃষ্টি করছে। সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই প্রস্তাবের টার্গেট অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা ভারতীয়রা নয়। কেবল যারা ভুয়া বা জাল কাগজপত্র নিয়ে এই রাজ্যে অবস্থান করছে, সেসব লোককে চিহ্নিত করে তাড়িয়ে দিতে তারা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

প্রস্তাবে আইবিআইদের কোনো ধরনের নতুন লাইসেন্স না দেয়া ও তাদের ব্যবসার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়। প্রস্তাবে কথিত আইবিআইদের কাছে কোনো ধরনের যানবাহন ভাড়া দেয়া নিষিদ্ধ করা হয়। চলতি সপ্তাহের প্রথম দিকে চুমুকিদিমার প্রধান ‘গাঁওবুড়া’ (গ্রাম প্রধান) লোকগণনার প্রস্তাব করেন। তিনি অ-নাগা সবাইকে তাদের পাসপোর্ট, ভোটার আইডি কার্ড, আধার কার্ড ইত্যাদি সাথে রাখতে বলেন। নাগাল্যান্ডে গাঁওবুড়ারা অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি।

 

 


প্রতিদিনের খবরগুলো ফেসবুকে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-

Logo

সম্পাদক: পল্লব মুনতাকা। জ্যাকম্যান, মেডওয়ে, ইউএসএ
ইমেইল: mail.newsevent24@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | newsevent24 2017