দ্বিতীয় টেস্টে নেই তামিম, অনিশ্চিত ওয়ানডেতেও

নিউজ ইভেন্ট২৪/আর

০৪ অক্টোবর ২০১৭,বুধবার, ০৮:৫৭

দ্বিতীয় টেস্টে নেই তামিম অনিশ্চিত ওয়ানডেতে

দ্বিতীয় টেস্টে নেই তামিম অনিশ্চিত ওয়ানডেতে

প্রথম টেস্টটা খেলেছিলেন চোট নিয়েই। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে আমন্ত্রিত একাদশের বিপক্ষে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেই বাঁ পায়ের পেশিতে ‘গ্রেড ওয়ান টিয়ার’ হয় তামিম ইকবালের।

 

চোট নিয়ে খেলার সময় প্রথম ইনিংসে ফিল্ডিং করতে গিয়ে পড়ে গিয়ে সেখানেই আবার ব্যথা পান এই বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। টেস্ট শেষে পচেফস্ট্রুমে স্থানীয় ডাক্তার দেখানো হয় তামিমকে, ডাক্তারই বলেন এ রকম চোটের ক্ষেত্রে চার সপ্তাহের বিশ্রামের কথা। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় টেস্ট তো বটেই ওয়ানডে সিরিজও খেলতে পারবেন না তামিম।


খানিকটা আশার আলো অবশ্য আছে। তবে বাংলাদেশ দলের ফিজিওর কাছ থেকে তামিমের চোটের অবস্থা জেনে নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট মনে করছে, ১০ থেকে ১২ দিন ভালোমতো বিশ্রাম নিলে হয়তো ওয়ানডে সিরিজটা তামিম খেলতে পারবেন। দলের সেরা ব্যাটসম্যানকে ছাড়া নামতে কোন দলই বা চাইবে। ঢাকা টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দুই ইনিংসেই হাফসেঞ্চুরি করে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলা তামিম দলে থাকা মানেই ভালো একটা শুরুর প্রত্যাশা। কিন্তু ৬ অক্টোবর থেকে ব্লুমফন্টেইনে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তামিমকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে। টানা খেলার ক্লান্তিতে টেস্ট সিরিজে বিশ্রাম চেয়েছেন সাকিব আল হাসান, চোটের কারণে থাকবেন না তামিমও।

 

ফলে সেরা অলরাউন্ডার ও সেরা ব্যাটসম্যান, অর্থাৎ ঢাল-তলোয়ার ছাড়াই নামতে হবে বাংলাদেশকে।


তামিম খেলতে না পারায় হয়তো একটা সুযোগ পাবেন ইমরুল কায়েস। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ও প্রোটিয়াদের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট, এই ৩ টেস্টের ৬ ইনিংসে বলার মতো কোনো রান নেই ইমরুলের। তাই সৌম্যের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনায় তাঁর বাদ পড়ার যে শঙ্কাটা তৈরি হয়েছিল, তামিমের চোট বেড়ে যাওয়ায় হয়তো একটা ‘লাইফলাইন’ই পেয়ে গেলেন তিনি। ১৫ অক্টোবর কিম্বার্লিতে প্রথম ওয়ানডে, তার আগে ১২ তারিখে আছে প্রস্তুতি ম্যাচ। টানা বিশ্রাম পেয়ে ওয়ানডে সিরিজের আগেই যেন তামিম সেরে ওঠেন, এটাই প্রার্থনা ক্রিকেটভক্তদের।

....................

'এমন পারফরমেন্স করলে লজ্জা ছাড়া কিছু জুটবে না'

২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। সম্প্রতি ওয়ানডে ফরম্যাটের পাশাপাশি টেস্ট ফরম্যাটেও ভালো করছে বাংলাদেশ।

 

বিদেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কা এবং দেশের মাটিতে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সুখস্মৃতি নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯০ রানে অলআউট হওয়ার পর এতদিনের অর্জিত সব মান সম্মান খোয়ানোর শঙ্কা দেখছেন টাইগার ক্যাপ্টেন মুশফিকুর রহিম!


টসে জেতার পর ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত, বিবর্ণ বোলিং আর বাজে ব্যাটিংয়ে ৩৩৩ রানের বিশাল ব্যবধানে পচেফস্ট্রুম টেস্ট হেরে গেছে বাংলাদেশ। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সতীর্থদের সতর্ক করে তিনি স্পষ্ট করেই বলেছেন, এমন পারফরমেন্স করলে লজ্জা ছাড়া আর কিছু জুটবে না কপালে! দুই-তিন বছর ভালো খেলে দল যে সম্মান অর্জন করেছে, তা খোয়াতে সময় লাগবে না।

 

মুশফিক বললেন, 'দ্বিতীয় টেস্টে আমাদের আরেকটি সুযোগ আছে। ওই ম্যাচে অবশ্যই ভালো কিছু করে দেখাতে হবে। নয়তো এরকম লজ্জা ছাড়া আমরা কিছুই নিয়ে যেতে পারব না। চেষ্টা থাকবে ঘুরে দাঁড়িয়ে যেন আমাদের সেরাটা দিতে পারি। গত ২-৩ বছর ধরে আমরা যে সম্মান অর্জন করেছি সেটা যেন বজায় রাখতে পারি। সেটা যেন না হারাই সেই চেষ্টাই থাকবে।

'
চতুর্থ দিন শেষে জানা গিয়েছিল আজ পঞ্চম দিনের খেলায় থাকছেন না চোট আক্রান্ত দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা বোলার মরনে মরকেল। এতে কিছুটা আশা দেখছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পেস সেনসেশন কাগিসো রাবাদা আর স্পিনার কেশব মহারাজ মিলেই ডোবান বাংলাদেশকে। এই ম্যাচে জয়টা অসম্ভব ছিল বলে মনে করেন মুশফিক। তবে ড্র করাটা তার কাছে মোটেও অস্বাভাবিক মনে হয়নি। উইকেটও তার কাছে কঠিন মনে হয়নি। এই উইকেটেই রানের ফোয়ারা ছুটিয়েছে স্বাগতিক দল। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? দ্বিতীয় টেস্টের আগে সেটাই খুঁজে বের করতে হবে টাইগারদের।

 

.....

৪০০ উইকেটের ম্যাচে হেরাথের রেকর্ডের ছড়াছড়ি

পাকিস্তানের শেষ ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আব্বাসের উইকেটটি যেন রঙ্গনা হেরাথের ভাগ্যেই লেখা ছিল। তা না হলে দিলরুয়ান পেরেরা নো বল করবেন কেন? এই উইকেটটি না হলে যে টেস্ট ক্রিকেটে ৪০০ উইকেট পূরণ হতো না ৩৯ বছর বয়সী লঙ্কান স্পিন জাদুকরের।

 

তিনিই প্রথম বাঁ-হাতি স্পিনার যিনি ৪০০ উইকেটের এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করলেন।
তবে টেস্ট ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের ঘটনা বিরল নয়। হেরাথের আগে আরো ১৩ জন ক্রিকেটার ৪০০ কিংবা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন। ৮০০ উইকেট নিয়ে তো সবাইকে ছাড়িয়ে আছেন হেরাথের স্বদেশী স্পিন কিংবদন্তি মুত্তিয়া মুরালিধরন। ৭০৮ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন আরেক স্পিন কিংবদন্তি অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন। ভারতের অনিল কুম্বলের আছে ৬১৯ উইকেট।

 

হেরাথের প্রিয় প্রতিপক্ষ সম্ভবত পাকিস্তান। তার ৬ উইকেটের ফলে এই প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে ১০০ উইকেট নেওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করলেন কোনো বোলার। ভারতের কপিল দেবের ৯৯ ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের সর্বোচ্চ।


বয়সেই দিক দিয়েও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। ৩৫ বছর পেরুনোর পর ইতিহাসের প্রথম পেসার হিসেবে স্পর্শ করলেন ২০০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক। ১৯২ উইকেট নিয়ে এতদিন সবার ওপরে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি লেগ স্পিনার ক্ল্যারি গ্রিমেট। ১৮১ উইকেট ছিল শেন ওয়ার্নের।

 

রেকর্ডের এখানেই শেষ নয়! ৪০০ কিংবা তার বেশি উইকেট নেওয়া পঞ্চম স্পিনার হেরাথ। পাকিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ৪৩ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এই নিয়ে ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসে মোট ১১ বার ৫ কিংবা ততোধিক উইকেট পেলেন হেরাথ। এই রেকর্ডে তিনি সবার শীর্ষে। চতুর্থ ইনিংসে ৭ বার করে ৫ উইকেট নিয়ে হেরাথের পরে আছেন মুরালিধরন এবং শেন ওয়ার্ন।

 

 

 

 

 


প্রতিদিনের খবরগুলো ফেসবুকে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-

Logo

সম্পাদক: পল্লব মুনতাকা। জ্যাকম্যান, মেডওয়ে, ইউএসএ
ইমেইল: mail.newsevent24@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | newsevent24 2017