‘ওয়াশরুমের জন্য পাশের পেট্রলপাম্পে যাই’

নিউজ ইভেন্ট ২৪ ডটকম/আর

১১ জুলাই ২০১৭,মঙ্গলবার, ১০:০৭

মাথার ওপরে ফ্যান ঘুরলেও তাতানো রোদে গরম বাতাস বের হচ্ছে। চারদিকে টিনের শিটের বেড়া। ওপরেও টিন। কয়েকটি চেয়ার, একটি টেবিল। পাশে আছে পানির জার। রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ের পুলিশ বক্সের চিত্র। টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। ভরসা মার্কেট, মসজিদ বা পেট্রলপাম্প।

রাজধানীর প্রায় সব রাস্তার মোড়েই ছোট-বড় পুলিশ বক্স আছে। পানি খাওয়া, একটু বিশ্রাম, মামলার জন্য কথা বলাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে পুলিশ বক্স ব্যবহৃত হয়। কিন্তু অধিকাংশ পুলিশ বক্সের অবস্থাই ভালো নয়। নীলক্ষেত মোড় পুলিশ বক্সে দায়িত্বরত সার্জেন্ট শাহীন আলম বলেন, ‘এখানে এসি (সহকারী কমিশনার) স্যার বসেন বলে অবস্থা একটু ভালো দেখছেন। বাকিগুলোর অবস্থা খারাপ। ওয়াশরুমের জন্য পাশের পেট্রলপাম্পে যাই। যে পানি খাই, তা বিশুদ্ধ কি না, তা-ও জানি না।’
এই সার্জেন্ট আরও বলেন, বক্সটি টিনের হওয়ায় প্রচণ্ড গরম। তাপ বেশি হলে কেউ ভেতরে বসেন না। তখন তাঁরা গাছের নিচে বা কোনো ছায়াযুক্ত স্থানে চলে যান। নীলক্ষেত মোড়ে নিউমার্কেট লাগোয়া আরেকটি পুলিশ বক্স আছে। অবশ্য সেটা বন্ধই থাকে। সেখানে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ বলেন, বক্সটিতে কিছু নেই। দরকার হলে পাশেরটায় চলে যান।
দেয়ালের প্লাস্টার অনেকটাই খসে গেছে। কক্ষটিও ছোট। দুজন বসলে, আর কারও দাঁড়িয়ে থাকার জায়গা নেই। এর মধ্যেই চেয়ার, একটি ক্যাবিনেট। সায়েন্সল্যাবের পুলিশ বক্স এটি। এখানকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. হেলালউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই বক্স ক্রাইমের। আর বানিয়ে দিয়েছিল সিটি করপোরেশন। ট্রাফিক থেকে আমরা একটু জায়গা করে নিয়েছি। টয়লেট একটি আছে। কোনো রকমে ব্যবহার করা যায়। এ এলাকায় সব মিলিয়ে আমরা ১৪ জন কাজ করি। তাঁদের জন্য এই রুমটাই।’

পুলিশ বক্সের ভেতরেই পানির জার রাখা। বিশুদ্ধ কি না তা না জেনেই দায়িত্ব পালনকারীদের পান করতে হয়। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন
সার্জেন্ট ও কনস্টেবলদের পালা করে দায়িত্ব পালন করতে হলেও ট্রাফিক ইন্সপেক্টরদের থাকতে হয় আরও দীর্ঘ সময়। হেলালউদ্দিন বলেন, ‘আমরা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হলেও অন্যদের তুলনায় আমাদের বসার ভালো কোনো জায়গা নেই। পাবলিক তো বসতে দিতে চায় না।’ কক্ষটির ফ্যান, লাইট, চেয়ার দেখিয়ে বললেন, এগুলো তাঁরা নিজেরা ঠিক করিয়েছেন ও কিনেছেন।
পুলিশ বক্সগুলো বেশির ভাগই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বানিয়ে দেওয়া। কয়েকজন সার্জেন্ট বলেন, জায়গা সিটি করপোরেশনের হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানই কাজ করতে গেলে সমস্যায় পড়ে। আর একবার বানিয়ে দেওয়ার পরে আসবাবসহ বাকি জিনিস নিজেদেরই ব্যবস্থা করতে হয়। ট্রাফিক বিভাগ থেকেও আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই।
রাস্তা বড় করার জন্য মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের বক্স ভেঙে ফেলা হবে বলে জানালেন এখানকার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জহুরুল হক। কিন্তু তাঁরা কোথায় যাবেন সেটা এখনো জানেন না। যদি বিআরটিসির ডিপো থেকে কিছু জায়গা পান, তাহলে সেখানে বসবেন। জহুরুল হক বলেন, টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। মসজিদ, মার্কেটই ভরসা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নারী সার্জেন্ট বলেন, ‘পুরুষ সহকর্মীরা টয়লেটের প্রয়োজনে কোথাও যেতে পারলেও আমরা সহজেই তা পারি না। আমরা তো রাস্তাতেই থাকি বেশি। আমাদের হয়তো বক্সে অত বসতে হয় না। কিন্তু তারপরেও যা আছে, তার অবস্থা ভালো নয়।’

পুলিশ বক্সে টয়লেট-সুবিধা না থাকায় নারী সার্জেন্টরা বেশি সমস্যায় পড়েন। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন
কী ধরনের সুবিধা চান পুলিশ বক্সে, জানতে চাইলে একাধিক সার্জেন্ট ও কনস্টেবল বলেন, সব বক্সে না হলেও মূল পয়েন্টগুলোয় টয়লেট সুবিধা চান। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পানির গাড়ি থেকে তাঁরা পানি সরবরাহ করেন। নীলক্ষেত মোড়ের সার্জেন্ট শাহীন বলেন, ‘বাজারে ইলেকট্রিক পিউরিফায়ার পাওয়া যায়, অন্তত সেগুলোর ব্যবস্থা করা গেলে আমাদের জন্য ভালো হয়।’ টিনের পরিবর্তে ইট-সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করলে গরম থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আর রাস্তায় ঝামেলা হলে ভাঙচুরের কবলে পড়ে এই বক্সগুলো। ভালোভাবে তৈরি হলে ভাঙচুরের ভয় থাকে না। তিনি বলেন, মামলা বা কোনো ঝামেলা হলে কয়েক পক্ষকে একসঙ্গে ডাকতে হয়, কথা বলতে হয়। বসার কিছুটা জায়গা থাকলে বক্সেই তা করা সম্ভব। নয়তো তাদেরকে রাস্তার ওপরেই এসব ঝামেলা মেটাতে হয়। আরেক সার্জেন্ট হেলালউদ্দিন বলেন, জায়গা বেশি হলে অনেক সময় সাধারণ মানুষও প্রয়োজনে দাঁড়াতে বা বসতে পারে।
ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগের (পশ্চিম) উপকমিশনার লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘নতুন করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে পুলিশ বক্স করার জন্য দেওয়া হচ্ছে না। সিটি করপোরেশন বলেছে, তারা নতুন করে বানিয়ে দেবে। যেখানে টয়লেট সুবিধা থাকবে।’ তবে তিনি বললেন, আসবাবসহ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাঁদের কাছে আবেদন করলে ‘লজিস্টিক’ সাপোর্ট দেন। খাওয়ার পানি সরবরাহ করার ব্যবস্থা করেন।
নতুন পুলিশ বক্স তৈরির ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ফরাজী শাহাবউদ্দীন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ট্রান্সপারেন্ট’ পুলিশ বক্স তৈরির পরিকল্পনা তাঁরা নিয়েছেন। যেখানে টয়লেট সুবিধাও থাকবে। এ অর্থবছরেই তা শুরু হবে।

-প্রথম আলো

 

 


প্রতিদিনের খবরগুলো ফেসবুকে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-

Logo

সম্পাদক: পল্লব মুনতাকা। জ্যাকম্যান, মেডওয়ে, ইউএসএ
ইমেইল: mail.newsevent24@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | newsevent24 2017