উচ্চশিক্ষিত এক যুবকের বিকৃত যৌনলালসার শিকার বহু নারী

নিউজ ইভেন্ট ২৪ ডটকম/আর

০৩ জুলাই ২০১৭,সোমবার, ২১:৫৯

ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। অস্ট্রেলিয়ায় লেখাপড়া শিখে দেশে ফিরেছেন বছর চারেক আগে। কোটি কোটি টাকার মালিক। ঢাকায় দামি ফ্যাট-বাড়ি। চড়তেন সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো বিলাসবহুল গাড়িতে। এক কাপ কফি খেতে হলেও ছুটে যেতেন ফাইভস্টার হোটেলে। অথচ সারাক্ষণ চোখ পড়ে থাকত বাসার কাজের মেয়ের দিকে। এক এক করে ১১টি বিয়ে করেও ঘরের কাজের মেয়ের দিক থেকে চোখ ফেরাতে পারেননি। নিত্যনতুন কাজের মেয়ে তার চাই-ই চাই। চার বছরে কাজের মেয়ে পরিবর্তন করেছেন অন্তত অর্ধশত। তাদের কেউই তার বিকৃত যৌন লালসা থেকে রেহাই পাননি। বিপাকে পড়েন গত শুক্রবার। নতুন কাজের মেয়েকে দিয়ে লালসা মেটাতে না পেরে তাকে সাত তলা থেকে নিচে ফেলে দেন। আর তখই ঘটে বিপত্তি। থানা পুলিশে জানাজানি হয়। পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়।
বিকৃত এই ব্যক্তির নাম সালেহ আহম্মেদ ওরফে কার্লোস (৩৫)। রাজধানীর পরীবাগের ১৬ তলা দিগন্ত টাওয়ারের সাততলায় তার বসবাস। বাবার নাম আবুল হোসেন। বাড়ি ডেমরার মাতুয়াইলে। পরীবাগের দিগন্ত টাওয়ারেই অন্য ফ্যাটে তার বাবাও বসবাস করছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশে ফিরে বাবার ব্যবসায় দেখাশোনা করছেন। দেশে তাদের ড্রেজার ব্যবসায় রয়েছে বলে তার পরিবারের দাবি।
সালেহ আহম্মেদ দাবি করেছেন, অস্ট্রেলিয়ায় তাদের হোটেল ব্যবসায় রয়েছে। গত ৩০ জুন রাতে বাসার কাজের মেয়ের ওপর পাশবিক নির্যাতন চালাতে গিয়ে ব্যর্থ হন তিনি। এরপর তিনি সাততলা থেকে কাজের মেয়েকে নিচে ফেলে দেন। গুরুতর আহতাবস্থায় ওই কাজের মেয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার কোমরের হাড় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, দেশে তার নাম সালেহ আহম্মেদ হলেও অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে নাম হয় কার্লোস। র‌্যাবের একটি সূত্র বলেছে, সালেহ আহম্মেদের হুন্ডি ব্যবসা রয়েছে। গতকাল রোববার হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ওই কাজের মেয়ে বলেন, ওই বাসায় কাজে যোগদানের পর থেকেই সালেহ আহম্মেদ তাকে বিকৃত যৌনাচারে বাধ্য করে।
তিনি জানান, মদ এবং ইয়াবার নেশায় টালমাটাল থাকতেন সালেহ আহম্মেদ। তার বর্তমান স্ত্রী সীমাও ইয়াবায় আসক্ত বলে উল্লেখ করেন ওই গৃহপরিচারিকা।
জানা গেছে, সালেহ আহম্মেদ ইতঃপূর্বে আরো ১০টি বিয়ে করেছেন। সীমা তার ১১ নম্বর স্ত্রী। সালেহ আহম্মেদ স্ত্রীর সামনেই তার সাথে যৌনাচারে লিপ্ত হতেন। শুক্রবার রাতে সালেহ আহম্মেদ নিজেই নিজের শরীরে একাধিক ইনজেকশন পুশ করেন। এরপর তিনি ওই গৃহপরিচারিকার সাথে যৌনাচারে লিপ্ত হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে সায় না পাওয়ায় ক্ষেপে যান সালেহ আহম্মেদ। এরপর তাকে কাঠের রোলার দিয়ে মারধর করা হয়। মারধরে বাধা দেয়ায় স্ত্রী সীমাকেও মারধর করেন। একপর্যায়ে তাকে বেলকুনি দিয়ে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দেন। পরে কি হয়েছে তিনি জানেন না। এ দিকে, ওই রাতে ভারী কিছু পতনের শব্দ শুনে দারোয়ান বাইরে গিয়ে দেখেন ওই কাজের মেয়ে পড়ে আছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পিজি হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ২০৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। গতকাল বিকেলে দেখা যায় কাজের মেয়ের পাশে রয়েছেন তার মা এবং ভাই।
আহত কাজের মেয়ে বলেন, ১৬ জুন বাড্ডা এলাকার নাজমা নামে এক নারী তাকে ওই বাসায় কাজের জন্য নিয়ে যান। মাসে বেতন ছিল ১৫ হাজার টাকা। তিনি বলেছেন, যেদিন তিনি যোগ দিয়েছেন সেদিনই তাকে নেশা জাতীয় কি যেন খেতে দেয়া হয়। তিনি তা খেতে অস্বীকার করেন। পরের রাতে তাকে কুপ্রস্তাব দেয়া হয়। তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। এর পরের রাতে তার ওপর জোর করা হয়। তিনি বাধ্য না হলে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। তাকে রড এবং কাঠের রোলার দিয়ে পেটানো হয়। এরপর থেকেই তার ওপর এভাবে নির্যাতন করতেন সালেহ আহম্মেদ।
তিনি আরো বলেন, তার জানামতে এই নাজমা চার বছর ধরে সালেহ আহম্মেদকে মেয়ে সাপ্লাই দিয়ে আসছেন। গত চার বছরে অন্তত অর্ধশত মেয়ে সাপ্লাই দেয়া হয়েছে তাকে। বেশি দিন কেউ কাজ করেননি। তাদের প্রত্যেককেই মোটা অঙ্কের বেতনের লোভ দেখিয়ে কাজে দেয়া হয়। কিছুদিন কাজ করার পরে সালেহ আহম্মেদের যৌন লালসা মিটে গেলে তাকে বিদায় করা হয়।
মেয়েটির মা বলেন, তারা রামপুরা ওয়াপদা রোডে বসবাস করতেন। বছর কয়েক আগে তার মেয়েকে তার স্বামী ছেড়ে চলে যায়। এরপর তার মেয়ে স্থানীয় বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। ভালো বেতনে কাজ দেয়ার কথা বলে গত মাসের ১৬ তারিখ তার মেয়েকে পরীবাগের ওই বাসায় দেন নাজমা।
গতকাল দুপুরের পরে পরীবাগে ৩/৩/এ দিগন্ত অ্যাপার্টমেন্টে গিয়ে দেখা যায় সালেহ আহম্মেদের ফ্যাটটি তালাবদ্ধ। ওই ফ্যাটটি সিলগালা করে দিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়রা বলেছেন, এই ভবনেই সালেহ আহম্মেদের আরো ফ্যাট রয়েছে। ওই ফ্যাটটি ব্যবহার হতো সালেহ আহম্মেদের আনন্দ ফুর্তির জন্য। প্রতি শুক্রবার রাতে সেখানে মদের আসর বসত। বাইরে থেকে অনেক তরুণী যেত সেখানে। এ নিয়ে ফ্যাট মালিকদের সাথে একাধিকবার তার বিবাদ হয়েছে। ফ্যাট মালিকেরা সালেহ আহম্মেদের এসব কুকর্মে বাধা দিতে গিয়ে অনেকে লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সালেহ আহম্মেদের বাবাও একই চরিত্রের। শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান গতকাল বলেছেন, এর আগেও সালেহ আহম্মেদকে তারা একবার আটক করেছিলেন। ইয়াবা সেবনের দায়ে আটক করা হয়েছিল। তখন তার বাবা আবুল হোসেনকে ডেকে ছেলেকে শোধরানোর জন্য বলেছিলেন। কিন্তু কর্ণপাত করেননি। পরে জানতে পেরেছেন, বাপ-ছেলে একই সাথে কুকর্মে লিপ্ত।
এ দিকে সালেহ আহম্মেদের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা হয়েছে। গতকাল তাকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ আদালতে পাঠায়। এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ওসি।
এ দিকে ওই তরুণীর মা ও ভাই গতকাল বলেছেন, চিকিৎসা নিয়ে তারা শঙ্কিত। ডাক্তার বলেছেন, চিকিৎসায় অনেক টাকা লেগে যাবে। কিন্তু তাদের তো কোনো টাকা নেই। কিভাবে এ চিকিৎসা হবে তা ভেবে অস্থির তারা।
এ দিকে র‌্যাব জানিয়েছে, সালেহ আহম্মেদ একজন হুন্ডি ব্যবসায়ী। তার ব্যবহৃত বিলাসবহুল গাড়িটি গতকাল জব্দ করেছে র‌্যাব-৩। গাড়িতে সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো ছিল।

 

 


প্রতিদিনের খবরগুলো ফেসবুকে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-

Logo

সম্পাদক: পল্লব মুনতাকা। জ্যাকম্যান, মেডওয়ে, ইউএসএ
ইমেইল: mail.newsevent24@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | newsevent24 2017