শরীয়তপুরে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে অপহরণের অভিযোগ

নিউজ ইভেন্ট ২৪ ডটকম/আর

১৬ জুন ২০১৭,শুক্রবার, ১৯:২৬

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার কলুকাঠি গ্রাম থেকে বকুল সুলতানা (৪৬) নামের এক গৃহবধূকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ জুন ভোররাতে বাড়ি থেকে তাকে অপহরণের অভিযোগ এনে ওই গৃহবধূর স্বামী হাবীবুর রহমান ও তার এক আত্মীয় জাহাঙ্গীর হোসেনকে আসামি করে নড়িয়া থানায় গত ১৩ জুন মামলা দায়ের করা হয়।

আজ শুক্রবার ওই গৃহবধূর চার শিশু সন্তান সংবাদ সম্মেলন করে মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানায়।
নড়িয়া থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নড়িয়া উপজেলার আকসা গ্রামের মৃত সোহরাব মীরের মেয়ে বকুল সুলতানার বিয়ে হয় একই উপজেলার কলুকাঠি গ্রামের হাবীবুর রহমান বেপারীর সঙ্গে। তাদের চারটি সন্তান রয়েছে। হাবীবুর রহমান ঢাকায় একটি পোশাক বিক্রির দোকানে কাজ করেন। বকুল সুলতানা সন্তানদের নিয়ে কলুকাঠি গ্রামে বসবাস করতেন। পরিবারের সদস্যদের অজান্তে পাঁচ বছর আগে হাবীবুর রহমান আরেকটি বিয়ে করেন। ওই স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতে থাকেন তিনি। এ নিয়ে বকুল-হাবীব দম্পতির মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। হাবীব তাদের ভরণপোষণ দেওয়া বন্ধ করে দেন। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে বকুল আইনের আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। এতে হাবীব আরো ক্ষুব্ধ হন।

গত ৭ জুন সেহেরি ও নামাজের পর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন বকুল সুলতানা। বকুলের ভাই লোকমান মীর ওই দিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। বকুলের সন্ধান না পেয়ে তার ছেলে নড়িয়া কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মোহাম্মদ আলী থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করে। মামলায় তার বাবা হাবীবুর রহমান ও তার এক আত্মীয় জাহাঙ্গীর হোসেনকে আসামি করা হয়। এরপর মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে আজ শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বকুল সুলতানার চার শিশু সন্তান। তারা তাদের মাকে জীবিত ফিরে পেতে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।

বকুল হাবীব দম্পতির ছেলে মোহাম্মদ আলী বলেন, "আমার বাবার বিয়ের বিষয়টি দুই বছর আগে আমরা জানতে পারি। তখন থেকেই তিনি আমার মা ও আমাদের অত্যাচার করতে থাকেন। আমাদের সংসার খরচের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন। ৭ জুন ভোরে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর মাকে ঘর থেকে ডেকে রাস্তায় নিয়ে যান। এ সময় বাবা তাকে উঠিয়ে নিয়ে যান। থানায় মামলা করেছি, পুলিশ এখনো মাকে উদ্ধার করতে পারেনি। বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, মাকে অপহরণ করা হয়েছে। এখন কে আমাদের আশ্রয় দেবে? আমরা ছোট ছোট ভাই-বোনরা মায়ের ফিরে আসার অপেক্ষায় আছি। আপনারা আমদের মাকে খুঁজে পেতে সহায়তা করুন। "

থানায় মামলা হওয়ার পর থেকে জাহাঙ্গীর ও হাবীবুর রহমান পলাতক রয়েছেন। মুঠোফোনে চেষ্টা করেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি। তাদের মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে।

নড়িয়া থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া বলেন, "গৃহবধূ অপহরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। স্বামীর বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ এনে তার ছেলে মামলা করেছে। মামলার পর থেকে দুই আসামি পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। ওই নারীকেও খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। "

 

 


প্রতিদিনের খবরগুলো ফেসবুকে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-

Logo

সম্পাদক: পল্লব মুনতাকা। জ্যাকম্যান, মেডওয়ে, ইউএসএ
ইমেইল: mail.newsevent24@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | newsevent24 2017