‘এরদোগানকে সরাতে ৩০০ কোটি ডলার খরচ করেছিল আমিরাত’

নিউজ ইভেন্ট ২৪ ডটকম/আর

১৪ জুন ২০১৭,বুধবার, ১৯:২৫

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মওলুদ কাবুসওগলু আভাস দিয়েছেন যে, একটি মুসলিম দেশ এরদোগান ও তুরস্ক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছিল। তুরস্কের গণমাধ্যমের একজন কলমিস্ট গত সোমবার দাবি করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ও তুরস্কের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করতে ৩০০ কোটি ডলার খরচ করেছিল।


ইয়েনি সাফাক ডেইলির কলামিস্ট মেহমেত আসিত বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মওলুদ কাবুসওগলু আভাস দেন, একটি মুসলিম দেশ এরদোগান ও তুরস্কের সরকারকে উৎখাত করতে ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছিল এবং গত ১৫ জুলাইয়ের ব্যর্থ অভ্যুত্থানের প্রতি সমর্থন দিয়েছিল দেশটি।


আসিত জানান, কাবুসওগলু বলেন, ‘আমরা জানি একটি দেশ তুরস্কের সরকারকে অবৈধ পন্থায় ক্ষমতাচ্যুত করতে অভ্যুত্থান চেষ্টার সমর্থনে ৩০০ কোটি ডলার খরচ করেছিল। সবচেয়ে বড় কথা হলো, দেশটি হলো একটি মুসলিম দেশ।’
এই কলামিস্ট দাবি করেন ওই মুসলিম দেশটি হলো আরব আমিরাত। তারা এরদোগান ও তুর্কি সরকারকে উৎখাত করতে ওই অর্থ ঢেলেছিল। এ দাবি সম্পর্কে ডেইলি সাবাহকে আসিত বলেন, তুরস্কের পররাষ্ট্র দফতর সূত্র নিশ্চিত করেছে, ওই দেশটি হলো আরব আমিরাত। পত্রিকাটিকে আসিত বলেন, ‘মন্ত্রী অবশ্য দেশটির নাম উল্লেখ করেননি। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে ওই দেশটি হলো আরব আমিরাত।’


আংকারাভিত্তিক ফাউন্ডেশন ফর পলিটিক্যাল ইকনোমিক অ্যান্ড সোস্যাল রিসার্চের (সেটা) উপসমন্বয়ক প্রফেসর মুহিত্তিন আতামান বলেছেন, আরব বসন্তের শুরু থেকেই তুরস্ক সরকারের বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে আমিরাত। এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যয়ও বহন থেকেও বিরত থাকেনি দেশটি।


গুলেনপন্থী সন্ত্রাসী গ্রুপ (ফেটো) ১৫ জুলাইয়ের অভ্যুত্থান চেষ্টা চালায়। মিডলইস্ট আইয়ের ২৯ জুলাই প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়, অভ্যুত্থান চেষ্টার কয়েক সপ্তাহ আগে আল-গাদ টিভি চ্যানেলের মালিক মোহাম্মাদ দাহলান সন্ত্রাসী গ্রুপটির কাছে এই অর্থ হস্তান্তর করেন। দাহলানের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির মাধ্যমে ফতহুল্লাহ গুলেনের সাথেও এ সময় তিনি যোগাযোগ করেন। জানা গেছে, আমিরাতের সাথে দাহলানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।


অভ্যুত্থানের রাতে আমিরাতের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গুলেনপন্থীরা সফল হয়েছে। ১৫ জুলাই রাতের অভ্যুত্থান চেষ্টাকে পরের দিন সকালেই ব্যর্থ করে দেয়া হয়। অভ্যুত্থানকারীরা এর বিরোধী জনতার ওপর গুলি চালালে ২৪৯ জন নিহত হয়। তারা সেই রাতে প্রেসিডেন্ট যে ভবনে ছিলেন সেখানে হামলার চেষ্টা চালানোর সময় তুরস্কের পার্লামেন্ট ভবনে বোমা বর্ষণ করে। গত সপ্তাহে এরদোগান বলেন, আংকারা জানে কোনো কোনো উপসাগরীয় দেশ ১৫ জুলাই অভ্যুত্থান চেষ্টায় উৎফুল্ল হয়েছিল। আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে। আমরা জানি সেই রাতে কারা কিভাবে কাটিয়েছিল। কয়েকটি দেশ এ ব্যাপারে কিভাবে অর্থ ব্যয় করেছিল সে তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে।


আতামান জোর দিয়ে বলেন, ‘সেসব জায়গায় গোলযোগ রয়েছে সে সব স্থানে জড়িত আমিরাত। আমরা এও জানি, মিসর থেকে সোমালিয়া পর্যন্ত, যেখানে গণ-অভ্যুত্থানের চেষ্টা হচ্ছে সেখানেই টাকার বস্তা নিয়ে হাজির হয় আমিরাত। তাদের নীতির সাথে তাদের তুরস্ক বিরোধী তৎপরতার মিল রয়েছে।’


অভ্যুত্থানের পর আল-গাদ টিভিতে হাজির হয়ে ফেটো নেতা গুলেন এরদোগানকে উৎখাত করতে পাশ্চাত্যের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, তুরস্ক ‘গৃহযুদ্ধে জাড়িয়ে পড়ছে’ এবং এরদোগানের হাত থেকে রক্ষা পেতে তুরস্কের ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (একে) পাটিকে অবিলম্বে ক্ষমতাচ্যুত করতে তিনি পশ্চিমাদের প্রতি আহ্বান জানান।

 

 


প্রতিদিনের খবরগুলো ফেসবুকে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-

Logo

সম্পাদক: পল্লব মুনতাকা। জ্যাকম্যান, মেডওয়ে, ইউএসএ
ইমেইল: mail.newsevent24@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | newsevent24 2017