এভাবে মানুষ চলতে পারে!

নিউজ ইভেন্ট ২৪ ডটকম/আর

১২ জুন ২০১৭,সোমবার, ২২:৪২

হাসপাতাল, বাসাবাড়ি, দোকানপাট, সড়ক—সব পানিতে থই থই। কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমরসমান পানি। আজ সোমবার বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রামের কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে চলেছে নৌকা।

জলাবদ্ধতার কারণে মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে আজ সকালে পানি ঢোকে। নিম্নচাপজনিত টানা বৃষ্টির কারণে দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো পানি ঢুকেছে এই হাসপাতালে। এর আগে গত ৩১ মে বৃষ্টির কারণে এখানে পানি ঢুকেছিল। ওই দিন চট্টগ্রামে ২২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। ৩ জুন পর্যন্ত ওই পানি ছিল হাসপাতালে।

নগরের চন্দনপুরা এলাকার বাসিন্দা মুনিয়া আক্তার ছেলেকে নিয়ে মা ও শিশু হাসপাতালে আসেন গতকাল রোববার। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা নিতে এসে এখানে নতুন বিড়ম্বনায় পড়লাম। শয্যা থেকে নামতেই পানি। ময়লা–আবর্জনা ভাসছে পানিতে।’

হাসপাতাল ছাড়াও গতকাল আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, এক্সেস রোড, কমার্স কলেজ রোড, চান্দগাঁও, ষোলোশহর, হালিশহর, মুরাদপুর, ছোটপুল, বহদ্দারহাট, চকবাজার, খাতুনগঞ্জ, চাক্তাইসহ বিভিন্ন স্থানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি ওঠে। সড়ক, দোকানপাট, বাসাবাড়িতে পানির কারণে ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ।

পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রোববার বেলা তিনটা থেকে সোমবার বেলা তিনটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৮০ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে। স্থল নিম্নচাপের কারণে এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে বলে জানান পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তরের কর্তব্যরত আবহাওয়াবিদ সৈয়দা মিমি পারভিন।

রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। বৃষ্টির সঙ্গে জোয়ারের পানিতে দুপুরে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের অন্তত পাঁচ শ দোকান তলিয়ে যায়।

আগ্রাবাদ এক্সেস সড়কে বেলা ১১টায় দেখা যায়, কোমরসমান পানিতে চলাচল করছে লোকজন। চোখে আঘাত পাওয়া আট বছরের ছেলে রাহাতকে মা ও শিশু হাসপাতালের দিকে ছুটছিলেন রঙ্গিপাড়ার রমিজ উদ্দিন।


একটু বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে পানি ঢোকে। সোমবারের টানা বর্ষণেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ছবিটি দুপুর তোলা।


সিডিএ ১ নম্বর রোডের মাসুম আহমেদ নিজের প্রাইভেট কারটিকে পানি থেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও পারেননি। সিডিএ ২৯ নম্বর সড়কের মো. শাহজাহানের বাড়িতে পানি ঢুকে যায়। শাহজাহান ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, বছরে কয়েকবার পানি ওঠে এখানে। এভাবে মানুষ চলতে পারে!

মহেশখালের পাশে এক্সেস রোডে বেলা একটার দিকে দেখা যায়, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে থই থই করছে রাস্তাঘাট। যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এক্সেস রোডের ব্যাপারীপাড়া থেকে ছোটপুল পর্যন্ত নৌকাযোগে মানুষকে পারাপার করতে দেখা যায়।

বেলা তিনটার দিকে নগরের চকবাজার এলাকায় কোমরসমান পানি দেখা যায়। এ সময় তলিয়ে যায় কাঁচাবাজার। সবজি বিক্রেতা মো. হোসেন বলেন, এ নিয়ে গত দুই সপ্তাহে দুবার পানি উঠল বাজারে।

জলাবদ্ধতার কারণে অফিসগামী লোকজনকে পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে। জলাবদ্ধতার কারণে যানবাহন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশার ভাড়াও। নগরের কাজীর দেউড়ির বাসিন্দা শাহদাতকে সকাল ১০টায় বৃষ্টির মধ্যে আগাবাদের অফিস যেতে ১২০ টাকা অটোরিকশার ভাড়া গুনতে হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই ভাড়া ৭০ টাকা।

চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জ এলাকায় বেলা তিনটা থেকে বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে বিভিন্ন দোকানে পানি ঢুকে। চাক্তাই শিল্প ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এস এম হারুনুর রশীদ বলেন, বাজারের বেশির ভাগ নিচু দোকানে পানি ঢুকেছে। এতে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ পরে নির্ধারণ করা হবে।

সূত্র জানায়, জোয়ারের পানি ঠেকাতে ২০ মাস আগে চট্টগ্রাম নগরের মহেশখালে সিটি করপোরেশনের অনুরোধে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ওই বাঁধের কারণে আগ্রাবাদ ও হালিশহর এলাকায় বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে স্থানীয় লোকজনের অভিমত। বিষয়টি উপলব্ধি করে সিটি করপোরেশন ওই বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অস্থায়ী বাঁধটি এখন আর প্রয়োজন নেই বলে সভায় জানান সিটি করপোরেশনের স্থানীয় কাউন্সিলর হাবিবুল হক।


জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি দেখতে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন আজ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেন। দুপুরে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে গিয়ে মেয়র গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য মহেশখালে যে বাঁধটি দেওয়া হয়েছে, সেটা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত হয়েছে বাঁধটি অপসারণের। এ ব্যাপারে বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। সেটি অপসারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, মহেশখাল অনেক জায়গায় ভরাট হয়ে গেছে। খাল খনন করা হবে। এ ছাড়া উচ্ছেদ করা হবে অবৈধ দখল। আগ্রাবাদ এক্সেস সড়কও উঁচু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থল নিম্নচাপের কারণে সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে পাহাড় ধসের সতর্কবার্তাও জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসন দুপুরে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে লোকজনকে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করেছে।

-প্রথম আলো

 

 

 


প্রতিদিনের খবরগুলো ফেসবুকে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-

Logo

সম্পাদক: পল্লব মুনতাকা। জ্যাকম্যান, মেডওয়ে, ইউএসএ
ইমেইল: mail.newsevent24@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | newsevent24 2017