পত্রিকায় ভুয়া বিজ্ঞপ্তি ও ঘুষ নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ

নিউজ ইভেন্ট ২৪ ডটকম/আর

১১ মে ২০১৭,বৃহস্পতিবার, ২২:৫৭

যশোর সদর উপজেলার মোমিননগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি ও টাকা লেনদেনের মাধ্যমে সহকারী শিক্ষক ও প্রদর্শক (ডেমোনেস্ট্রেটর) পদে ছয়জনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে দুজন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়েছেন। অন্যদের আবেদন শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নাকচ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর ও তার পরবর্তী সময়ে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে কোনো পদে বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ করলে তা অবৈধ বলে বিবেচিত হবে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোমিননগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ২০১৫ সালের ২৪ অক্টোবর স্থানীয় দৈনিক গ্রামের কাগজ-এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসএসসি (মাধ্যমিক) ভোকেশনালের (কারিগরি) শূন্যপদে বাংলা/ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে একজন করে সহকারী শিক্ষক ও কম্পিউটার ডেমোনেস্ট্রেটর পদে একজন নিয়োগ করা হবে। ওই বছরের ২৭ ডিসেম্বর বোর্ড গঠন করে চারজনের স্থলে ছয়জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রক্রিয়া বৈধ করতে ২০ অক্টোবর যশোরের দৈনিক সমাজের কাগজ নামের পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে দাবি করে একটি বিজ্ঞপ্তির ফটোকপি নিয়োগ বোর্ডে উপস্থাপন করা হয়।


তবে খোঁজ করে দেখা গেছে, ওই তারিখে দৈনিক সমাজের কাগজ-এ মোমিননগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। ওই দিনের পত্রিকা এ প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।


‘ভুয়া’ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন করে নিয়োগ পেয়েছেন যশোর শহরের বাসিন্দা শামীম রেজা। তিনি বলেন, ‘নিয়োগের সময় আরেক শিক্ষকের মাধ্যমে আমার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। পরে জানতে পেরেছি ভুয়া বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আমাদের নিয়োগ করা হয়েছে। ওই নিয়োগ টিকবে না জেনে অন্য চাকরিতে ঢুকে পড়েছি। এখন টাকা ফেরত পাচ্ছি না।’


ইংরেজি বিষয়ে নিয়োগ পাওয়া সহকারী শিক্ষক মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘একই বোর্ডে নিয়োগ পাওয়া দুজন শিক্ষক এমপিওভুক্ত হয়েছেন। আমরাও আশায় আছি।’ চাকরির জন্য টাকা ঘুষ দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মোবাইলে (মুঠোফোনে) এসব কথা বলা যাবে না। আর আমার বলাও ঠিক হবে না।’


এসব অভিযোগ সম্পর্কে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল হক বলেন, ‘আমি কোনো পয়সা-কড়ি লেনদেন করিনি। এ বিষয়ে সভাপতি সাহেবের সঙ্গে কথা বলেন।’


বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শহিদুল ইসলাম যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘কারও কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নেওয়া হয়নি। আমার জানামতে দুই দফায় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে।’


জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই বিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর গত সোমবার দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত কর্ম দিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

-সূত্রঃ প্রথম আলো

 

 


প্রতিদিনের খবরগুলো ফেসবুকে পেতে নিচের লাইক অপশনে ক্লিক করুন-

Logo

সম্পাদক: পল্লব মুনতাকা। জ্যাকম্যান, মেডওয়ে, ইউএসএ
ইমেইল: mail.newsevent24@gmail.com

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | newsevent24 2017